মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশর শ্রেষ্ঠ কবিতা

এমনতো কথা ছিল না
মাহমুদুল হাসান নিজামী

এমনতো কথা ছিলোনা
অাষাঢে বৃস্টি হবেনা
মেঘ দেখে বসে অাছি ভরসায় 
বৃস্টির দেখা অার হলোনা।। 

 নদী অার নীলিমা একাকার হয়ে
ঐ দেখো সাগরের বন্ধনে রয়ে
রংধনু মেলেছে রঙিন ডানা।। 

ঐ বরিষন হলো কতো হৃদয়ে 
অধরা ঝড় বহে নীলিমায়
প্রিয়তম বিরাগে বৃস্টি নামে
বিষাদে ভরে যায় হৃদয় অাঙিনা।। 

সক্ষমতা
মাহমুদুলহাসান নিজামী

যাহার যাহা সক্ষমতা 
থাকেনাকো ধারন করার
তাহার বেশী তাকে দিলে
করবে সবি ছারখার 
 অতি দিলে ক্ষতি  হয়
ফেটে যাওয়ার থাকে ভয়। 

মৃত্যুই পরম বিবস্থ
মাহমুদুল হাসান নিজামী

মৃত্যুই পরম বিশ্বস্থ পরম স্বজন
না কারো হবোনা ভৃত্য 
অাত্মমানের চরম ইচ্ছার নাম সম্মান 

জীবন গড়ার ছড়া
মাহমুদুল হাসান নিজামী

কন্ঠ নরম স্বর নরম
সকলের হইবে পরম
 শুনা বেশী বলা কম
বিজ্ঞতার‌ লক্ষন
কথা কম বেশী কাজ
জীবনে সুখের তাজ।

বিদ্রোহী নজরুল
মাহমুদুল হাসান নিজামী

বসতোনা মন পড়া লেখায়
বসতোনা মন কাজে
উদাস মনে অধীর হয়ে
হাটতো সকাল সাঁঝে
কি হারানোর ভাবনায় সে
ভাবতো নিত্যরোজ
কেনইবা সে ভাবতো কেবল
কেউ কি নিতো খোঁজ?
দুখু মিয়া বললে আজি
চিনবে তুমি তাকে
অগ্নিবীনার কবি তিনি
বিশ্ব চিনে যাকে
আসানসোলের যেই ছেলেটির
মাথায় বাবরী চুল
তিনিই মোদের প্রিয়কবি
বিদ্রোহী নজরুল।

শূন্যতা
মাহমুদুল হাসান নিজামী

পূর্ণতায় ভরে দিলে
 ঘর সংসার
অনুভব করিবেনা
শূন্যতা তব আর ।

স্বপ্নটা সত্য হৈবে রঙিন 
মাহমুদুল হাসান নিজামী

প্রত্যাশা বেশী নয়
স্বপ্নটা বড় চাই
স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে
আগামীর পথটায়
নিরলস চেস্টায়
সম্মুখে চলা চাই
তবে তব একদিন
স্বপ্নটা সত্য হৈবে রঙিন ।

রাগী
মাহমুদুল হাসান নিজামী

ঘনঘন রেগে যায়
অল্প কথায় ক্ষেপে যায়
সরল সাদা মন
ভুল বুঝে সবে তারে
অভিযোগ তার ঘাড়ে
সর্বদা সারাক্ষণ
রাগী মানুষ রাগী
আপবাদে দাগী

জয়ের তাজ
মাহমুদুল হাসান নিজামী

বেশী জানুন অন্য থেকে
অন্য থেকে বেশী  কাজ
পরনির্ভর হয়োনাকো
 পাইবে তবে জয়ের তাজ

যুবতী চাঁদ
মাহমুদুল হাসান নিজামী

যুবতী চাঁদ রূপের দ্যুতি ছড়ায়
চৌদ্দ তারিখ রাতে
জ্যোছনার চাদরে বাসর সাজায়
সে যেন আকাশের সাথে
নিসর্গ  উৎসবে প্রকৃতি হাসে
প্রনয় অনুপ্রাসে
নির্জনতায় নিস্তব্ধ রজনী
নিরব ইশারায় ডাকে স্বজনী
আলোর জোয়ারে ভাসছে চাঁদ
ইচ্ছের অবাধ্যতায় ভাঙ্গে সকল বাধ
স্বর্গের অপ্সরা ছুঁয়ে দেয় কোমল হাত
সুন্দর সোহাগে হেসেছিল সমগ্র রাত ।

সত্য মিথ্যা
মাহমুদুল হাসান নিজামী

যাহা কিছু ঘটেছে
দিলে তার তথ্য
তাকে বলে বাস্তব
তাকে বলে সত্য ।

কোন কিছুই ঘটে নাই
অযথা বলে বেড়ায়
মেকি কথা বার্তা
তাকে বলে মিথ্যা ।।

ভুলে ভুলে
মাহমুদুল হাসান নিজামী

ভুলে ভুলে পার হৈলো 
জীবনের আধাবেলা
ওরে বোকা জীবন নিয়া
আজো করিস খেলা
মানুষ চেনা বড় দায়
স্বার্থের তরে বদলে যায়
সরল মানুষ সাদা মানুষ
যিনি অতি মহান
নিজের মতো ভাবেন তিনি
অন্যজনে সমান ।

অপবাদ
মাহমুদুল হাসান নিজামী

রাতকে অন্ধকার বলে অপবাদ দিওনা
এই রজনীতেই সদা শুভ্রপক্ষে হাসে চন্দ্রিমা
কখনো কোন ঘন আঁধারে খোশবু ছড়ায়
অনন্ত ইচ্ছায় হাত বাড়ায় প্রিয়তমা ।
সব আঁধার কে যদি বল রাত
 যদি আলোবিহীন আসে প্রভাত
কি উপমায় ডাকিবে তারে
যদি প্রভাত আসে আঁধারে ।
কোন আলোর নাম যদি হয় অনলপ্রপাত
তাহার চেয়ে হাজার ভালো তিমির রাত
আমি অসীম নক্ষত্র দেখেছি এই রজনীতে
অনন্ত হাসির ফোয়ারা দেখেছি চন্দ্র দিঘিতে
এই রাতে এই রজনীতে
আমি স্বপ্ন দেখেছি সুন্দরের সাথে ।


হৃদয়ে উৎসব
মাহমুদুল হাসান নিজামী

এতো মনোরমা অপরূপা 
কে সাজালে অঙ্গখানি তার
বিমুগ্ধ চিত্তে তাহারী পানে
চেয়ে থাকি বারবার ।
অনুপম ভাঁজে দেহ সাজে
তাহারী অঙ্গ শোভা
কারুময় অবয়ব স্বপ্নীল মমতায়
স্বর্গীয় দিলরুবা
খন্ডিত চাঁদ তিমিরে হাসে
নিরব সুর সঙ্গম নব অনুপ্রাসে
নয়ন যাদুতে কেড়ে নেয় ইচ্ছে গুলো সব
সে এসেছে তাই হৃদয়ে উৎসব ।

চাওয়া
মাহমুদুল হাসান নিজামী

নয়নের বিনিময় 
যদি হয় প্রনয়
শরীরের ভাঁজে
কেউ কিছু খোজে
চাওয়া মানে প্রত্যাশায় উম্মুখ
ইচ্ছের সুন্দর সুখ

সেই ছবি তবে
মাহমুদুল হাসান নিজামী

যেন মরুঝড় এলোমেলো মনঘর নার্গিস বনে
কার হাতছানি চপলা মনখানি দুর বাতায়নে
তারুণ্য প্রভাতে নব উচ্ছলতায় বিনম্র অবয়বে
সুচিত্রা বনলতা বলে কত কথা সেই ছবি তবে
কোন কোন ছবি বানায় কবি স্বপ্নীল ভুবন
ইচ্ছের প্রপাত নব ঝর্না তিমিরে দ্যুতির উদগীরন
আশার প্রদীপ জেগে ওঠে নবীন কারুকাজে
প্রিয়তম মোর কবিতা নদী স্বপ্নীল কায়ার ভাঁজে
চুলের সিঁথি জাগায় প্রীতি মোর প্রিয়তমে
কে যেন ডাকে নিসর্গ অরন্যে সদা আলিঙ্গনে
 কতো যে রূপ -সাজ অপরূপ তব কায়ায়
এতো সুন্দর কিভাবে ছড়ালে কবির মায়ায় ।

মৃত্যু তুমি মিথ্যে হয়ে যাও
মাহমুদুল হাসান নিজামী

মৃত্যু তুমি মিথ্যে হয়ে যাও
সব সত্য সত্য থাক
সব মৃত্যু মিথ্যা হয়ে যাক
আকাশ ভেঙ্গে পড়লো
খবরটি সত্য হোক
জমিন তলিয়ে গেছে
তা-ও সত্য হোক
নদী সমগ্র গ্রাম গিলে ফেলেছে
এসিড বৃষ্টি তে পৃথিবী ঝলসে গেছে
মধ্যি রাতে সূর্য উঠেছে
সব সত্য হয়ে থাক
তবে কোন প্রিয়জনের মৃত্যু খবর
আমাকে কেউ দিওনা
সব মৃত্যু মিথ্যা হয়ে যাক
মৃত্যু তুমি মিথ্যে হয়ে যাও।

কবিতা আমার অবজ্ঞা 
আর অবহেলর প্রতিধ্বনি
 উদাসী বাতায়ন অধরা সমীরন
শূন্য হিয়ার শব্দ গাথুনী ।
     -  মাহমুদুল হাসান নিজামী

স্পর্শের অনুভব
মাহমুদুল হাসান নিজামী

স্পর্শের অনুভবে অন্য এক সুন্দর
ভাবনার কারুকাজে
অনুক্ত ইচ্ছেরা নীসর্গ নিরবতায়
অনন্ত শৈল লাজে
নিতে চায় সবাই-দেয়ার মাঝেও
কতো স্বর্গ সুখ
কে জানে সম বিনিময়ে
মিশে আছে সব উপভোগ
আকাশ বরিষন দেয়
মৃত্তিকায় সব উর্বরতা
এক পশলা হাসিতে হাজারো
ছন্দ দিয়েছিলে কোন এক কবিতা।
নদী তখন নীলিমার কাছে হাসে
কতো সুর বেজে ওঠে ছন্দের অনুপ্রাসে।

তারার ফুল
মাহমুদুল হাসান নিজামী

রাতের জমিনে জ্যোসনা নামে
আকাশে তারার ফুল 
মধ্যরাতে বেঁকে গেলে
সাঁঝের বেলায় কবুল কবুল ।
হস্তে গয়না কন্ঠে ময়না
কতো স্বপন করলে বপন
নীরবে নিশিথে ছুঁয়ে দিলে
ইচ্ছে সোহাগ বিলিয়ে যতন ।
সাঁঝের বেলায় মেহেদী ফুল
তিমিরে রজনী গন্ধা
অধরা ঐ সুরে মাতাল
নীলের নিরব ছন্দা ।
কে তুমি গো দুরের দেশে
শোনাও সুরের বানী
তুমিগো কাহার ছন্দে নাচো
হামিগো তাহা জানি।


কি লাভ হইলো  বাড়িঘর করে 
মাহমুদুল হাসান নিজামী

কি লাভ হইলো 
এই আলিশান বাড়িঘর করে 
থাকার সুযোগ হইল না তোর 
সেই প্রিয় ঘরে ।

হায়রে মানুষ বড় বোকা 
মরীচিকায় খাচ্ছস ধোকা 
অতি লোভে পরেরে 
অতি লোভে পরে ।।
দালান কোঠা গাড়ী বাড়ি
যেতে হবে সবি ছাড়ি
আসল বাড়ী কবরেরে
আসল বাড়ী কবরে ।।

আমার কেহ হইলো নারে
মাহমুদুল হাসান নিজামী

আমার কেহ হইলো নারে 
আমি কারো হইলাম না
আপন স্বার্থ সবাই দেখে 
পরের তরে কানা ।।

সবাই শুধু পেতে চাই রে 
দিতে কেন চাইনা
আপন রক্ত ভাই বোন ও
কেউ তো কারো না ।।

একাই আমি করছি বহন
দুঃখ কষ্ট যাতনা
যাহার দুঃখ তারেই কাদায়
অন্যরা দেয় সান্তনা ।।

ভাঙ্গিস নারে মন 
মাহমুদুল হাসান নিজামী

মসজিদ ভাঙ্গিস মন্দির ভাঙ্গিস
ভাঙ্গিস নারে মন
এই মনেতে আছে আমার
আল্লারি আসন ।।

মসজিদ হইল আল্লার ঘর
আল্লাহ হইলেন দয়ার সাগর
তাহার ঘরটি ভাঙলে পরে
হয়তোবা তার মাফি পাবে
ভাঙ্গা মনের অভিশাপে
জ্বলবি রে তুই সারাক্ষণ ।।

মদ পান করা মহাপাপ
হয়তো তাহাও পাইবে মাফ
কারো মনে কষ্ট দিলে
খোদাই নাহি ক্ষমা মিলে
ব্যথিত জন ক্ষমা তারে
করবে না রে যতক্ষণ ।।

স্বাক্ষর 
মাহমুদুল হাসান নিজামী 

স্বরের প্রতিটি প্রতীক আমার একেকটি অক্ষর 
অক্ষরের মিলিত বাসরে প্রসব হয়ে যায় স্বাক্ষর 
দুটো স্বাক্ষরে হয়ে যায় আমাদের নিরাপদ চুক্তি 
জজ সাহেবর স্বাক্ষরে হয়তো সাজা নয়তো মুক্তি 
 স্মৃতির স্বাক্ষরে লেখা ছিল যেই নাম
গোকুলপু্রের ধানক্ষতে দোলা দেয় অবিরাম 
 যেই রং ছুঁয়েছিল অধরা অক্ষরে 
হৃদয় পাতায় শর্তবিহীন চুক্তির স্বাক্ষরে 
শরত অথবা হেমন্তের  সাঝের বেলায়
কালের সাক্ষী একটি নদী আর নীলিমায়
কবির চুক্তির শর্তগুলো মমতার কাছে হয় সমর্পন
হৃদয় চুক্তির নেই  কোন নবায়ন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন